এই লেখাটি যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া/সেল্ফ-রিয়লাইজেশন ফেলোশিপের চতুর্থ অধ্যক্ষ এবং সঙ্ঘমাতা শ্রীশ্রী মৃণালিনী মাতার ওয়াইএসএস/এসআরএফ সদস্য এবং বন্ধুবর্গকে ২০১৬-তে লিখিত একটি চিঠির উদ্ধৃতাংশ। মৃণালিনী মাতাজি, যিনি ২০১১ থেকে ২০১৭ আমৃত্যু ওয়াইএসএস/এসআরএফ অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি আমাদের সদর্থক মনোভাব গড়ে তুলতে এবং ঈশ্বর ও নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে উৎসাহিত করেন। আমাদের প্রতিকূলতাকে সুযোগে রূপান্তরিত করতে তাঁর এই চিরন্তন পরামর্শ সর্বতোভাবে উপযুক্ত।
প্রায়ই প্রতিদিনের ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবী অতীতের আধ্যাত্মিক এবং জড়গত অজ্ঞতা দূর করার চেষ্টায় এক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরমহংস যোগানন্দ আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে আমরা ঊর্ধ্বমুখী বিবর্তনের যুগে আছি এবং সাময়িক উত্থান-পতনের মধ্যে তিনি আমাদের সামনে পরম আশা এবং শুভদর্শিতার এক ভবিষ্যৎ চিত্র তুলে ধরেছেন।
ভীত বা নিরুৎসাহিত না হয়ে ঈশ্বর সকল আত্মাকে যে স্বাধীনতা এবং ঐশ্বরিক শক্তি দান করেছেন — প্রতিদিন তা কাজে লাগানোর মাধ্যমে তুমি তোমার নিজের জীবনে সেই সদর্থক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে পারো।
আমরা তাঁরই প্রতিমূর্তিতে তৈরি, এবং আমাদের মধ্যে সেই ক্ষমতা নিহিত রয়েছে যার মাধ্যমে আমরা দ্বৈততার বিক্ষুব্ধ নাটকের ঊর্ধ্বে অবস্থিত এক উচ্চতর সত্তায় নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি — ঈশ্বর যেমন মুক্ত, তেমনই মুক্ত হতে পারি; তাঁর তুরীয় চেতনা, প্রেম এবং আনন্দে মিলিত হতে পারি। সেই সত্য আবিষ্কার করাই আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য এবং এই পৃথিবীর দুঃখকষ্ট এবং অসঙ্গতির পরম সমাধান।
মায়া আমাদের জড়জগতের সাথে আবদ্ধ রাখার চেষ্টা করে, যার ফলে আমরা বাইরের পরিস্থিতির প্রতি অসহায় এবং দুর্বল বোধ করি। এটি ভয়, উদ্বেগ বা অন্যান্য নেতিবাচক আবেগের সাথে অতি সংবেদনশীলভাবে অহংকে প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলে যা ইচ্ছাশক্তিকে দুর্বল করে দেয় এবং দৃষ্টিকে সংকুচিত করে। কিন্তু পরমহংসজি আমাদের অসহায়ত্বের সেই মায়াকে গ্রহণ না করার জন্য উৎসাহিত করেন; এবং নিশ্চিত করতে শেখান যে, আমাদের মন এবং ইচ্ছাশক্তি ঈশ্বরের সর্বজ্ঞ মন এবং তাঁর সর্বশক্তিমান ইচ্ছার দ্বার। মন ও ইচ্ছাশক্তির সদ্ব্যবহার করে যদি আমরা সেই আন্তর দ্বারগুলি উন্মুক্ত রাখি, তাহলে বাহ্যিক প্রতিকূল পরিস্থিতিও আমাদের আত্মার সহজাত সাহস ও ক্ষমতাকে প্রকাশ করার সুযোগে পরিণত হয়। এইভাবে আমরা অসহায়ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে আমাদের দৈনন্দিন পরিবেশের উপর সদর্থক প্রভাব ফেলতে পারি।
পরমহংসজি আমাদের বলেছিলেন, “ব্যক্তি-হৃদয়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পৃথিবীও পরিবর্তিত হবে”। সেই পরিবর্তন শুরু হয় আমাদের নিজস্ব চেতনার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে। প্রতিদিন ধ্যান করো এবং প্রতিদিন তাঁর শিক্ষার কিছু উৎসাহব্যঞ্জক, পুনরুজ্জীবনকারী সত্য আত্মস্থ করো। এর ফলে তুমি ঈশ্বরের প্রতি এবং নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
যখন তুমি হৃদয়ে ঐশ্বরিক সাম্যতাকে প্রথম স্থান দিতে — সততার সাথে জীবনযাপন করতে এবং অন্যদের সাথে দয়া, সহানুভূতিশীল এবং চিন্তাশীলতার সাথে আচরণ করতে মনস্থির করো — তখন জেনো যে, তুমি এই পৃথিবীতে দুঃখকষ্ট এবং বিবাদবিসংবাদের মূল কারণ: স্বার্থপরতা এবং এর ফলে সৃষ্ট বিচ্ছিন্নতা এবং কলহদ্বন্দ্বাদি দূর করতে সচেষ্ট হয়েছ।


















