জন্মোৎসব আবেদন — ২০২৬

২ জানুয়ারি, ২০২৬

“আপনার চিন্তাভাবনা যতটা অনুমতি দেয়, গুরু আপনার ততটাই নিকটবর্তী…। তাঁর সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলা থেকেই এর সূচনা তাঁর সেই দিব্য চেতনা, যা ঈশ্বরেরই চেতনা। যে কেউ ধ্যানের মাধ্যমে তা অর্জনের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা করে, সে তাঁর সহায়তা ও আশীর্বাদ লাভ করে।”

— শ্রীশ্রী দয়ামাতা, তৃতীয় অধ্যক্ষ, ওয়াইএসএস/এসআরএফ

জন্মোৎসবে বিশেষ অর্পণের মাধ্যমে নববর্ষের সূচনা করুন

প্রিয় দিব্য আত্মন,

আমাদের গুরুদেব শ্রীশ্রী পরমহংস যোগানন্দজির জন্মবার্ষিকী—পবিত্র জন্মোৎসব উপলক্ষে আপনাকে আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই পবিত্র উপলক্ষে আমরা গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আমাদের গুরুদেবের মহান জীবন ও উদ্দেশ্যকে স্মরণ করি, যাঁর দিব্য জ্যোতি আজও আমাদের—তাঁর শিষ্যদের এবং সমগ্র মানবজাতিকে আশীর্বাদ করে চলেছে। ক্রিয়াযোগের প্রাচীন জ্ঞান প্রকাশের মাধ্যমে গুরুদেব আন্তরিক সাধকদের জন্য এক সুস্পষ্ট ও সরল পথ দেখিয়েছেন, যা আত্মাকে চিরন্তন আনন্দের অসীম সাগরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

রাঁচিতে গুরুদেবের পবিত্র ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক অনন্য সুযোগ

এই বছর জন্মোৎসবের এই পবিত্র সময়ে গুরুদেবের দিব্য উদ্দেশ্যের সেবায় অংশ নিতে, আমাদের প্রত্যেককে এক বিশেষ সুযোগ এনে দিয়েছে যাতে তাঁর অতি প্রিয় রাঁচি আশ্রম আগামী প্রজন্মের জন্যও শান্তি, আশ্বাস ও ঈশ্বর-অনুভবের এক পবিত্র আশ্রয়স্থলে তাঁর উপস্থিতি দীপ্তোজ্জ্বল হয়ে থাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা আপনাদের সঙ্গে ওয়াইএসএস রাঁচি আশ্রমে অতিথি সুবিধার উন্নয়ন এবং প্রেক্ষাগৃহ সংস্কারের আনন্দদায়ক সংবাদ জানাতে চাই। এরপর যাঁরা আশ্রমে এসেছেন, তাঁরা লিখে জানিয়েছেন — এই উন্নয়ন তাঁদের আশ্রম অভিজ্ঞতাকে কতটা সমৃদ্ধ করেছে এবং কত বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

এখন আমরা আপনাকে আহ্বান জানাই এই অত্যাবশ্যক উদ্যোগগুলির পরবর্তী ধাপকে সমর্থন করার জন্য, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভক্তরাও আরও উন্নত ও অনুপ্রেরণাদায়ক তীর্থ অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন:

মোট আনুমানিক ব্যয়: ₹১২ কোটি

আপনার উদার অর্থসাহায্য গুরুদেবের প্রিয় রাঁচি আশ্রমকে শান্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির এক পবিত্র তীর্থরূপে যারা প্রত্যেকে সেই পবিত্র পরিবেশে আশ্রয় চায় তাদের সকলের জন্য সংরক্ষণ করতে সহায়তা করবে।

গুরুদেবের আশ্রমসমূহে সেবারত আমরা সন্ন্যাসী ও সেবকবৃন্দ আপনার প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং আপনার কল্যাণের জন্য প্রতিদিনের প্রার্থনা নিবেদন করছি।

ঈশ্বর ও গুরুদেব সর্বদা আপনাকে আশীর্বাদ করুন।

দিব্য সখ্যতায়,
যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অব ইন্ডিয়া

রাঁচি — প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য এক পবিত্র আশ্রয়

“আমার আধ্যাত্মিক সাধনার অদৃশ্য অমৃত আমি প্রধানত মাউন্ট ওয়াশিংটন ও রাঁচিতে ছড়িয়ে দিয়েছি…”

— শ্রীশ্রী পরমহংস যোগানন্দ

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ওয়াইএসএস রাঁচি আশ্রম এক আশীর্বাদধন্য তীর্থস্থান, যেখানে ভক্তরা গুরুদেবের পবিত্র উপস্থিতি সঞ্জাত ভূমিতে শ্রদ্ধাভরে পদচারণা করেছেন, উদ্যানেতে ধ্যান করেছেন এবং আশ্রমের প্রতিটি কোণে ঈশ্বর ও গুরুদেবের স্নেহময় উপস্থিতি অনুভব করেছেন। লিচুবেদির মত পবিত্র স্থান যেখানে গুরুদেব কিশোর বালকদের শিক্ষা দিয়েছিলেন; তাঁর বাসকক্ষের উপাসনালয় যেখানে তিনি থাকতেন ; এবং স্মৃতি মন্দির—যেখানে তিনি আমেরিকা গমনের দিব্য দর্শন লাভ করেছিলেন—এই সকল পবিত্র স্থান আজও তাঁর পবিত্র স্পন্দন বিকিরণ করে চলেছে।

অগণিত ভক্ত রাঁচি আশ্রমকে অন্তরের নীরবতার এক আশ্রয়স্থল রূপে লালন করেছেন, যেখানে তাঁরা শান্তি, আরোগ্য, উপলব্ধি ও দিব্য সংযোগ লাভ করেছেন। গুরুদেবের কর্মযজ্ঞ ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, আশ্রমের পবিত্রতা ও সৌন্দর্য সংরক্ষণ করা আমাদের এক পবিত্র দায়িত্ব—শুধু আজকের তীর্থযাত্রীদের জন্য নয়, ভবিষ্যতের সাধকদের জন্যও।

পথ ঘাট ও ক্যাম্পাস পরিবেশের উন্নয়ন

প্রারম্ভকাল থেকেই আশ্রমের অধিকাংশ রাস্তা ও পথ অমসৃণ ও কাঁচা অবস্থায় রয়ে গেছে, যা সময়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই গড়ে উঠেছে। যদিও এটি আশ্রমের সরলতার প্রতিফলন ছিল, তবে নিকাশির অভাবে বর্ষাকালে জল জমে থাকা, অসম ভূমি এবং কাঁচা রাস্তায় ধুলোর সমস্যা দর্শনার্থীদের — বিশেষ করে প্রবীণ ভক্তদের — জন্য যথেষ্ট অসুবিধার সৃষ্টি করেছে, তৎসহ যানবাহন চলাচলেও নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

এছাড়াও, ক্যাম্পাসের ল্যান্ডস্কেপিংয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে রাস্তার বিন্যাসে পরিমার্জন প্রয়োজন। অতিথিদের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায়, এই পথগুলিকে যত্নসহকারে নতুন রুপায়ন করা আমাদের ওপর এক জরুরি দায়িত্ব আরোপ করছে, যাতে পরিবেশের প্রশান্তি অক্ষুণ্ণ রেখে নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যায়।

স্মৃতি মন্দিরের বিপরীতে সেবালয়ের দিকে যাওয়া পাথর-বিছানো পথের উপস্থাপনা...

আমাদের পরিকল্পিত উন্নয়নসমূহের মধ্যে রয়েছে:

  • পরিষেবা ও জরুরি যানবাহনের নিরাপদ চলাচলের জন্য ১৬-ফুট প্রশস্ত কংক্রিট পার্শ্ববর্তী প্রবেশপথ নির্মাণসহ ভক্তদের জন্য সুস্পষ্ট পদচারণার পথ
  • স্মৃতি মন্দির, শিব মন্দির ও সেবালয়ের মতো পবিত্র স্থানের চারপাশে পাথর-বিছানো পথ, যাতে স্বচ্ছন্দতা ও শ্রদ্ধা বজায় থাকে
  • অতিথি আবাস এলাকা, কর্পূর গাছের মঞ্চ (যেখানে শ্রী দয়ামাতাজি ভক্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন), শিব মন্দির ও স্মৃতি মন্দিরের নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলের সৌন্দর্যায়ন
  • সুচিন্তিত উদ্যান বিন্যাস ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ফলক, যাতে দর্শনার্থীদের পথনির্দেশ সহজ হয় এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে দৃশ্যগত সামঞ্জস্য বজায় থাকে
  • ময়দান এলাকা ও কেন্দ্রীয় রন্ধনশালার নিকটে নান্দনিকভাবে পরিকল্পিত প্রবেশদ্বার নির্মাণ। নব নির্মিত প্রবেশদ্বারগুলি স্বয়ং গুরুদেবের পরিকল্পনা অনুসারে নির্মিত হবে, যাতে সেগুলি সহজেই ওয়াইএসএস আশ্রমের প্রতীকী রূপে চিহ্নিত হয়
  • প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, যার মধ্যে রয়েছে সৌরশক্তিচালিত আলোকসজ্জা, বৃষ্টির জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং স্থায়িত্ব বজায় রাখার জন্য বৈদ্যুতিক ও জলের পাইপলাইনের ব্যবস্থার উন্নতিসাধন অন্তর্ভুক্ত
আশ্রমের চারপাশে যানবাহন চলাচলের জন্য পরিধি বরাবর রাস্তা এবং পথচারীদের হাঁটার পথের রূপরেখা

শিশু, কিশোর ও যুব কর্মসূচির জন্য সুবিধাসমূহ

গত কয়েক দশকে শিশু, কিশোর ও তরুণ সাধকদের মধ্যে ওয়াইএসএস শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ধারাবাহিকভাবে এবং অত্যন্ত আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান সাড়া গত বছর ওয়াইএসএস রাঁচি আশ্রমে চলমান শিশু সৎসঙ্গ কার্যক্রমের পাশাপাশি একটি সাপ্তাহিক কিশোর-কিশোরীদের জন্য কার্যক্রম শুরু করার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ফলপ্রসূ হয়েছে।

বর্তমানে এই কর্মসূচিগুলি অস্থায়ী সুবিধা হিসেবেই পরিচালিত হচ্ছে। তদুপরি, কক্ষের অভাবে বিভিন্ন বয়সের শিশু-কিশোরদের একত্রে একই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হচ্ছে, যা আদর্শ নয়।

সম্প্রতি এক ১৭ বছর বয়সী লিখেছে:

এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাবকে সমর্থন করার জন্য আমরা একটি সুসংগঠিত যুব সেবা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছি, যা সারা দেশে যুব কর্মসূচিগুলির তত্ত্বাবধান করে আমাদের আশ্রম, কেন্দ্র ও মণ্ডলিতে অনলাইন ও সরাসরি উভয় মাধ্যমেই। ভবিষ্যতে এই অংশগ্রহণ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশিত। তাই এই কর্মসূচিগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং তরুণদের আধ্যাত্মিক প্রয়োজন যথাযথভাবে লালন করতে নির্দিষ্ট সুবিধাসমূহ অপরিহার্য।

এই প্রয়োজন পূরণে, আমরা শ্রবণালয়ের নিকটে অবস্থিত বিদ্যমান কাঠামোটি (যা ‘পুরনো প্রিন্সিপালের কোয়ার্টার্স’ নামে পরিচিত) ভেঙে ফেলে শিশু, কিশোর ও যুব কার্যক্রমের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত একটি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছি। প্রস্তাবিত দুই-তলা ভবনটিতে থাকবে:

  • পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধাসহ একাধিক কক্ষ
  • অডিও-ভিডিও সুবিধাসম্পন্ন শিক্ষার জায়গা
  • যুব সেমিনার ও বৈঠকের জন্য বৃহৎ বহুমুখী উপযোগী হল
  • কর্মীদের জন্য অভ্যর্থনা কক্ষ ও অফিসের জায়গা
প্রস্তাবিত যুব সেবা ভবনের আকাশদৃশ্য

ওয়াইএসএস পাঠমালা মুদ্রণ ও সংরক্ষণের জন্য একটি সুবিধা নির্মাণ

যোগদা সৎসঙ্গ পাঠমালা এবং অন্যান্য আধ্যাত্মিক প্রকাশনার মুদ্রণ ও বিতরণ গুরুদেবের পবিত্র উদ্দেশ্যের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাঁচি আশ্রমে বর্তমানে দুটি মুদ্রণ যন্ত্র চালু রয়েছে, যেখানে ইংরেজি ও বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় পাঠমালা, বুলেটিন এবং অন্যান্য প্রকাশনা মুদ্রিত হয়।

গুরুদেবের ক্রিয়াযোগ শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়তে থাকায়, ওয়াইএসএস আরও বেশি ভারতীয় ভাষায় পাঠমালা প্রকাশের পরিকল্পনা করছে, যাতে সাধকরা তাঁদের মাতৃভাষায় এই শিক্ষাগুলি অধ্যয়ন করতে পারেন। এই স্বাভাবিক সম্প্রসারণের ফলে মুদ্রণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনই পাঠমালা ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য অধিক সামর্থেরও প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত সংরক্ষণাগারের (ফাইলিং বিভাগটিকে প্রতিস্থাপিত করে) ও ফ্লোর প্ল্যান-এর উপস্থাপনা

বর্তমানে, প্রেস বিভাগে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ স্থান নেই। ফলে কাগজ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মুদ্রণ সামগ্রী—যেমন কালি, প্লেট ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ—অস্থায়ী ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা আর পর্যাপ্ত নয়।

বর্তমানে ভক্তরা প্রধানত চিঠির পরিবর্তে ইমেল ও ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন। সেই কারণে ফাইলিং সেকশনের জন্য নির্ধারিত ব্যবহারিক স্থানটি পাঠমালা ও প্রিন্টিং প্রেসের জন্য একটি নির্দিষ্ট সংরক্ষণাগার হিসেবে পুনঃব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে ফাইলিং বিভাগের ভবনটি প্রায় ৭০ বছর পুরোনো এবং অত্যন্ত জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই কাঠামোগত ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে, ভবনটি ভিত্তি স্তর থেকে সম্পূর্ণ পুনর্নির্মাণ করা আবশ্যক।

যোগদা সৎসঙ্গ সেবাশ্রম — দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্রের সুবিধা উন্নয়ন

১৯৫৮ সাল থেকে ওয়াইএসএস রাঁচি আশ্রমে অবস্থিত দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র যোগদা সৎসঙ্গ সেবাশ্রম ভালোবাসা ও সহানুভূতির সঙ্গে দরিদ্র ও অভাবী মানুষের সেবা করে আসছে। সেবাশ্রমের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে একটি চক্ষু হাসপাতাল—যেখানে বিনামূল্যে চোখের অস্ত্রোপচার করা হয় — এবং একটি বহু-বিশেষজ্ঞ বহির্বিভাগ (ওপিডি), যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পরামর্শ প্রদান করেন। এই সেবার গুণমান ও নিঃস্বার্থ মনোভাবের কারণে, সেবাশ্রম রাঁচি ও আশপাশের অঞ্চলের মানুষের কাছে এক বিশ্বস্ত চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

২০২৩-এ আমরা চক্ষু হাসপাতালের একটি বড় ধরনের সংস্কার কার্য সম্পন্ন করেছি, যার মধ্যে রয়েছে নতুন অপারেশন থিয়েটার, ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি, ভবনের সংস্কার এবং শারীরিকভাবে অক্ষমদের সহায়তার জন্য একটি র‍্যাম্প সংযোজন।

একজন আবাসিক সেবক চিকিৎসক চোখের রোগী পরীক্ষা করছেন

এখন আমরা একই যত্ন ও দূরদর্শিতা ওপিডি ব্লকেও প্রসারিত করতে চাই। বিদ্যমান কাঠামোটি ৬০ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আশ্রমের বাইরের সরকারি রাস্তার উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায়, ওপিডি-র মেঝে এখন রাস্তার স্তরের নীচে অবস্থান করছে, যার ফলে ভারী বর্ষণে বারবার জল ঢুকে পড়ছে।

সেবাশ্রম যেন স্থানীয় সমাজের সেবা কার্যকরভাবে চালিয়ে যেতে পারে, তার জন্য ওপিডি ব্লকটি সম্পূর্ণভাবে পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন। নতুন কাঠামোটিতে থাকবে বন্যা প্রতিরোধের জন্য উঁচু প্লিন্থ স্তর, রোগীদের আরও দক্ষতার সঙ্গে সেবা প্রদানের জন্য উন্নত বিন্যাস এবং একটি নতুন দন্ত চিকিৎসা বিভাগ স্থাপনের ব্যবস্থা।

সেবাশ্রমের করুণাপূর্ণ সেবা স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসন, উভয়ের থেকেই বিপুল সদ্ভাব ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই সংস্কার কার্য গুরুদেবের পবিত্র আদর্শ সমগ্র যা হল মানবজাতিকে নিজের বৃহত্তর সত্তা হিসেবে সেবা করা, তার সংরক্ষণে সহায়ক হবে।

আর্থিক বিবরণ ও সময়সূচি

  • মোট ব্যয়: ₹১২ কোটি
  • প্রত্যাশিত সমাপ্তির তারিখ: ডিসেম্বর ২০২৬

এই পরিকল্পিত উন্নয়নগুলি রাঁচিকে একটি বিশ্বমানের আধ্যাত্মিক তীর্থকেন্দ্র হিসেবে সংরক্ষণ করবে এবং গুরুদেবের দৃশ্যকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দরিদ্র ও অভাবী মানুষের প্রতি করুণাপূর্ণ সেবার দীর্ঘ ঐতিহ্যকে অব্যাহত রাখবে।

আপনার সহায়তা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণীয়

গুরুদেব ওয়াইএসএস আশ্রমসমূহকে এমন এক আশ্রয়স্থল হিসেবে কল্পনা করেছিলেন, যেখানে অনুসন্ধিৎসু সাধকরা গভীরভাবে ধ্যান করতে পারেন, আত্মাকে সান্ত্বনাদায়ী শান্তি অনুভব করতে পারেন এবং ঈশ্বর-সংযোগে অগ্রসর হতে পারেন। আপনার অর্পণ—প্রার্থনা, সেবা বা আর্থিক সাহায্যের মাধ্যমে—বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ঈশ্বর অন্বেষণকারীদের জন্য রাঁচি আশ্রমের এই পবিত্র অভিজ্ঞতাকে সুরক্ষিত রাখে।

এই শেয়ার করুন