ভূমিকা:
আমরা সকলেই চাই যে আমাদের জীবনে এবং এই বিশ্বে অধিক ঐশ্বরিক উপস্থিতি প্রকাশিত হোক।
এবং এটি অর্জন করার সব থেকে সহজ ও সর্বজনীন উপায়ের মধ্যে একটি হল অপরের প্রতি আমাদের বিবেচনা এবং আচরণ।
ওয়াইএসএস/এসআরএফ অধ্যক্ষ এবং আধ্যাত্মিক প্রধান স্বামী চিদানন্দ গিরির মতানুযায়ী: “আপনার সম্মুখস্থ সকলের সদগুণ এবং আধ্যাত্মিক সচেতনতার অভিব্যক্তি অনুসন্ধান করে তার ওপর মনোনিবেশ করুন — এমনকি যাদের মতামতের সঙ্গে আপনার মিল নেই — এবং আপনি আবিষ্কার করবেন যে এইরূপ মনোসংযোগ এই বিশ্বে ঈশ্বরের উপস্থিতির প্রকাশকে আরও বৃদ্ধি করবে….অন্যদের আত্মা রূপে দেখুন এবং আপনার শ্রদ্ধা ও প্রশংসার এই মনোভাব তাদের এবং আপনার নিজের আত্মিক গুণাবলির এক মহোত্তর প্রকাশকে সূক্ষ্মভাবে আকর্ষণ করবে।”
নিম্নে আলোচিত আত্মিক গুণ, দয়াশীলতা অনুশীলনের গুরুত্ব এবং উপকারিতা বিষয়ে পরমহংস যোগানন্দের প্রেরণাদায়ী ও সম্যক জ্ঞান আপনি লাভ করবেন।
পরমহংস যোগানন্দের বক্তৃতা ও রচনা থেকে:
আন্তরিক, সুমিষ্ট বাণী তৃষ্ণার্ত প্রাণের জন্য অমৃতস্বরূপ। সহৃদয় উক্তির চাহিদা সর্বত্রই।
দয়াশীলতা প্রদর্শনের জন্য সমস্ত বিষয়ের সাথে আপোষ করার প্রয়োজন নেই। একে অপরের সঙ্গে সহমত বা ভিন্নমত হলেও শান্ত নীরবতা, আন্তরিকতা, বিনম্র উক্তি ব্যক্তিবিশেষের সদাচরণকে চিহ্নিত করে।
আমি এমনকি এক নশ্বর শত্রুর সাথেও নির্দয় হবার কথা চিন্তা করতে পারি না। এটা আমার কাছে যন্ত্রণাদায়ক। এই পৃথিবীতে এত নির্দয়তা প্রত্যক্ষ করলেও এর সঙ্গে যুক্ত হবার মতো কোনো অজুহাত আমার জন্য নেই। তুমি হীন হতে পারবে না যখন তুমি ঈশ্বরকে ভালোবাসবে এবং প্রত্যেক আত্মায় ঈশ্বরকেই প্রত্যক্ষ করবে।
নিজেকে কারো দ্বারা পদপিষ্ট হতে দিও না কিন্তু অন্তরে সর্বদা শান্ত থাকবে যাতে কেউ আঘাত করতে বা মানসিক শান্তি কেড়ে নিতে না পারে। আমি কঠোর নীরবতা ও উদাসীনতা পালন করি যখন অনুভব করি আমার দয়াশীলতা বারংবার অপব্যবহৃত হচ্ছে, যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজ ত্রুটি বুঝতে পারে; কিন্তু আমি নির্দয় হই না।
সর্বদা চিন্তাশীল ও প্রেমপূর্ণ থাকার নিশ্চিত ক্ষমতা এবং কেউ যাতে তোমাকে ভিন্ন পথে চালিত করতে না পারে সে সম্বন্ধে নিশ্চিত জ্ঞানই হল ক্ষুদ্র আমিত্বের ওপর বিজয়প্রাপ্তি। এটি অভ্যাস করো। সমগ্র রোমান সরকার খ্রিস্টের মধ্যে নির্দয়তা জাগিয়ে তুলতে পারেনি। এমনকি যারা তাঁকে ক্রুসবিদ্ধ করেছিল তাদের জন্যও তিনি প্রার্থনা করেছিলেন: “হে পরমপিতা, ওদের ক্ষমা করো; ওরা জানে না যে ওরা কি করছে।”
অন্যদের সুখী করতে তোমার স্বার্থের বাইরে যাও। তুমি প্রত্যেককে খুশি করতে পারবে না, কিন্তু যে সব আত্মা তোমার সাহচর্যে আসবে তাদের দয়া ও ভালোবাসা প্রদান করো। মানুষের নির্দয়তার পরিবর্তে দয়া প্রদান করার চেয়ে মুক্তিদায়ী কর্ম আর কিছু হতে পারে না।
[সংকল্প করুন:] “যারা আমাকে ভুল বোঝে তাদের হৃদয় উষ্ণ করার আশায় আমি সর্বদা নিরবচ্ছিন্ন দয়াশীলতার অমলিন বাতি ধারণ করব।”
২০২৩-এ ভারতের হায়দ্রাবাদে স্বামী চিদানন্দজির দেওয়া বক্তৃতার একটি ছোটো উদ্ধৃতাংশ দেখার জন্য আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই, যেখানে ওয়াইএসএস/এসআরএফ-এর অধ্যক্ষ কী ভাবে ধ্যানবিজ্ঞানের মাধ্যমে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করে প্রকৃত আত্মিক সত্বার দিব্য গুণাবলি জাগ্রত করা যায় সে বিষয়ে ব্যাখা করেছেন।


















