এটি শ্রী মৃণালিনী মাতার “ঈশ্বরের প্রেম ও পরমানন্দ আনয়নকারী যোগসাধনা”শীর্ষক ভাষণের একটি ছোটো উদ্ধৃতাংশ। শ্রী মৃণালিনী মাতা ২০১১ থেকে ২০১৭-তে তাঁর দেহাবসান পর্যন্ত ওয়াইএসএস/এসআরএফ- এর চতুর্থ অধ্যক্ষ পদে কার্যরত ছিলেন। এই সম্পূর্ণ ভাষণের ‘অডিও’ ওয়াইএসএস -এর ব্লগ ও এই পৃষ্ঠার নিম্নে পাওয়া যাবে। এই ভাষণের পূর্ণ মুদ্রিত সংস্করণটি যোগদা সৎসঙ্গ পত্রিকার ‘পেজ’-এ দেওয়া নমুনা প্রবন্ধের মধ্যে পড়া যাবে।
পরমহংস যোগানন্দের জীবন ও ভারতের সুপ্রাচীন যোগ-শিক্ষাকে আধুনিক জগতে নিয়ে আসার তাঁর মহান অভিযান সম্পর্কে আরও বিস্তারিতভাবে জানতে আমাদের ওয়েবসাইট দেখতে পারেন।
পরমহংস যোগানন্দ তাঁর লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে মাতৃভূমি ছেড়ে পাশ্চাত্যে যাত্রা করলেও, তাঁর হৃদয় ও আত্মা কখনই ভারতবর্ষকে ত্যাগ করেনি।
একবার জনৈক ভারতবাসী পরমহংসজিকে লেখেন: “আপনি নিশ্চয় আপনার ভারতকে ভুলে গেছেন। দীর্ঘসময় ভারতবর্ষ থেকে দূরে থাকার কারণে আপনার নিশ্চয় নিজের জন্মভূমিকে মনে নেই।” কিন্তু গুরুদেব উত্তরে তাকে লেখেন: “তা কখনোই হতে পারে না। আমি ভারতকে ভালোবাসি বলেই সারা পৃথিবীতে ভারতের ঈশ্বর-প্রেমের বার্তাকে ছড়িয়ে দিতে এই দেশে দিনরাত কাজ করে চলেছি। কোনো দিন এক মুহূর্তের জন্যও ভারত আমার হৃদয় ও মন থেকে দূরে থাকে না।
গুরুদেব ১৯৩৫-এ কেবল এক বছরের জন্য ভারতে ফেরেন। তার পরেও তিনি অনবরত ভারতে ফেরার পরিকল্পনা করতে থাকেন; কিন্তু তিনি এত ব্যস্ত হয়ে পড়ছিলেন, তাঁর কাজ এত বিস্তৃতি লাভ করছিল, যে জগজ্জননী তাঁকে আর ফিরতে দেননি। তবু তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, “আমি ভারতের বার্তাকে পৃথিবীর এই প্রান্তে বহন করে এনেছি, আর ভারত আমাকে জানতে পারবে।”
তাঁর গুরু শ্রীযুক্তেশ্বরজিও বলেছিলেন, “আমার বার্তা ভারত থেকে ভারতে প্রসারিত হবে না, তা ভারতের বাইরে থেকে প্রসারলাভ করে ভারতে ফিরবে।”
পরমহংসজি ও শ্রীযুক্তেশ্বরজি, দুজনেই একথা বলেছিলেন; এবং বাবাজিও পরমহংস যোগানন্দ সম্বন্ধে শ্রীযুক্তেশ্বরজিকে বলেছিলেন: “আমি তোমার কাছে এই চ্যালাটিকে পাঠাচ্ছি, সারা পৃথিবীতে [যোগের] বার্তা প্রচারের কাজে তাকে তোমাকে তৈরী করে নিতে হবে, কারণ ঈশ্বরের ইচ্ছা যে তাঁর পৃথিবীতে এখন ঐক্য স্থাপন হোক। ভেদাভেদ অবশ্যই আর যাতে না থাকে।”
তাই এই ঐক্য প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, উভয় দিক থেকে আসতে হবে; তবে, এই শিক্ষা এই আলোকে প্রথমে এখানে, ভারতবর্ষে প্রজ্জ্বলিত করা হয় ও সমগ্র বিশ্বে তা ছড়িয়ে দেয়া হয়। এই কারণেই আমরা এই পবিত্র ভূমিকে এত শ্রদ্ধা করি।
সেই বন্ধুসুলভ আকাশ,
বটবৃক্ষের আকর্ষক ছায়া,
প্রবাহিত পবিত্র গঙ্গা —
কী করে ভুলি তোমারে!
আমি ভালোবাসি ভারতের ক্ষেতে
তরঙ্গায়িত উজ্জ্বল শস্য,
শক্তিধর অমর দেবতাদের রোপিত
স্বর্গের শস্যের চেয়েও তা কতই না সুন্দর!
ঈশ্বরের আদেশে মোর আত্মার প্রশস্ত প্রেম
প্রথম জন্মায় এখানেই,
আমার আপন জন্মভূমিতে —
ভারতের রোদ-ঝলমলে ভাস্বর মাটিতে।
আমি ভালোবাসি তোমার বাতাস,
আমি ভালোবাসি তোমার চন্দ্রমা,
আমি ভালোবাসি তোমার পর্বত ও সাগর;
তোমার মাঝেই যেন হয় মোর জীবনাবসান।
তুমিই প্রথম আমায় শিখিয়েছিলে ভালোবাসতে
আকাশকে, তারাদের ও সর্বোপরি ঈশ্বরকে;
তাই আমার প্রথম শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত আজ,
তোমারই চরণে, হে ভারতবর্ষ!
তোমার থেকেই আমি দেখতে শিখেছি এখন,
সকল দেশকে তোমার মতো সমভাবে ভালোবাসতে।
প্রণাম করি তোমারে,
হে মোর জন্মভূমি, আমার মহীয়সী প্রেমের জননী।
এই ভূমিকে তার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের জন্য শ্রদ্ধা করো, কারণ তা এই জগতের আধ্যাত্মিক আলো।
সম্পূর্ণ ভাষণ শুনুন
সম্পূর্ণ ভাষণ পড়ুন
আমাদের যোগদা সৎসঙ্গ পত্রিকার ‘পেজ’-এ আপনারা ১৯২৫-এ পরমহংস যোগানন্দ দ্বারা প্রবর্তিত পত্রিকার ইতিহাস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন ও “ঈশ্বরের প্রেম ও পরমানন্দ আনয়নকারী যোগসাধনা” সমেত নিদর্শন প্রবন্ধগুলি পাঠ করে আনন্দলাভ করতে পারবেন ।


















